আড্ডায় গানে ফের মুখর হাতিরঝিল | 956957 | কালের কণ্ঠ

9
আড্ডায় গানে ফের মুখর হাতিরঝিল

সন্তানকে কাঁধে নিয়ে খুনসুটি করতে করতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন। পাশ থেকে বাবা-ছেলের এই খুনসুটি পরম তৃপ্তি নিয়ে উপভোগ করছিলেন মা মেহেদি আক্তার। পুরান ঢাকার নারিন্দা থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছিলেন তাঁরা। করোনাকালে গত ছয় মাসের বেশি সময় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বের হননি আল আমিন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত অফিসে গেলেও এই সময়টায় ওরা (স্ত্রী-সন্তান) বাসা থেকে বের হয়নি। শেষ ওদের নিয়ে বের হয়েছিলাম গত মার্চে। বাচ্চাটা প্রায়ই বাইরে যেতে হাত ধরে টানে। কিন্তু করোনার ভয়ে এত দিন বের হইনি। অনেক ভেবে আজ (গতকাল শুক্রবার) ওদের নিয়ে বাইরে এলাম। বাচ্চাটার আনন্দ দেখে ভালো লাগছে।’

মেহেদি আক্তার বলেন, ‘করোনার এই সময়ে বাচ্চাকে নিয়ে বাসাতেই ছিলাম। একটু প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে, পাশাপাশি বাচ্চাটার মানসিক বিকাশের জন্য খোলা আকাশের নিচে নির্মল পরিবেশে বেরিয়ে এলাম। এখনো কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তার পরও বাচ্চাটার জন্যই বের হয়েছি।’

পড়ালেখার পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে অফিস সহকারীর কাজ করেন দেলোয়ার হোসেন। সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বানানীর টিঅ্যান্ডটি এলাকা থেকে হাতিরঝিলে এসেছেন তিনি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আজ তো ছুটির দিন। একটু রিফ্রেশ হতে এখানে এসেছি। অনেক দিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। দুজনে একটা ভালো সময় কাটালাম।’

মালিবাগ থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে আসেন ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মো. রফিক। তিনি বলেন, ‘সপ্তাহের ছয় দিনই আমাদের অফিস। ছুটির দিনটা উপভোগ করতে তাই বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি।’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরো হাতিরঝিল এলাকা মুখরিত ছিল এমন হাজারো মানুষের পদচারণায়। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারদিক ছিল লোকে লোকারণ্য। গিটার নিয়ে গোল হয়ে বসে গাইছিল একদল তরুণ। পাশে কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিল পথচারীরা। কেউ কেউ অদূরে খোলা আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছিল ঘুড়ির ডানা। ব্রিজগুলোর রেলিংয়ে ভর দিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত সময় পার করছিল তরুণ-তরুণীরা। বাবার হাত ধরে অবাক চোখে ওয়াটার বাস দেখছে ছোট্ট শিশু। কেউ বা বেঞ্চে বসে দীর্ঘদিন দেখা না হওয়া বন্ধুর সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। পুরো পরিবার নিয়ে অনেকে আবার ওয়াটার বাসে লেক ঘুরে বেড়াচ্ছিল। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি জীবন কাটিয়ে একটু বের হয়ে আসতে পেরে আনন্দ যেন বাধ মানছিল না। গতকাল রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিলে এমন চিত্রই প্রত্যক্ষ করা গেছে।

বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে এসে মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকার টিঅ্যান্ডটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির হোসেন কালের কণ্ঠকে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, ‘এখানে বড় নৌকা (ওয়ারটার বাস) দেখেছি, খেলাধুলা করেছি। আমার খুব আনন্দ লাগছে।’

হাতিরঝিল এলাকার পাশাপাশি গতকাল রাজধানীর গুদারাঘাট ও গুলশান পুলিশ প্লাজাসংলগ্ন ওয়াটার বাস কাউন্টারগুলোয়ও ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।

গুলশানে ওয়াটার বাসের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত মিরাজ মিয়া বলেন, ‘অন্য দিনের চেয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি ভিড় থাকে। করোনার ভীতি কাটিয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছে। ফলে বিনোদনকেন্দ্রগুলোও আবার জমে উঠছে।’



Source by [Original Post]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here