ইভিএম নয়, এবার ভারতে ভোট হতে পারে ডিজিটালি

21
ইভিএম নয়, এবার ভারতে ভোট হতে পারে ডিজিটালি

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৯০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭ জন এবং মারা গেছে চার লাখ ৭০ হাজার চারশ তিনজন। তার মধ্যে ভারতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ২৬ হাজার নয়শ ১০ জন এবং মারা গেছে ১৩ হাজার সাতশ তিনজন।

করোনাভাইরাসের দাপটের মাঝেই ভোট দামামা বেজেছে বিহারে ৷ এর জেরে ব্যালট, ইভিএম-এর পর আরেকধাপ এগোতে চলেছে ভোট প্রক্রিয়া ৷ করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোটপ্রক্রিয়ায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন ৷ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ভোটের প্রচার থেকে ভোট প্রদান হতে চলেছে ডিজিটালি ৷

এর আগে ১৯৯৫ সালে বিহারে চলছিল লালুরাজ ৷ অবিভক্ত বিহারে ওটাই ছিল শেষ নির্বাচন ৷ সেবার রাজনীতির ময়দানে তখন নতুন, সমতা পার্টি প্রথম থেকেই নীতীশ কুমারকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল ৷

সময় যত যাচ্ছিল নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়ে যেত উৎসব ৷ নির্বাচনী প্রচার মানে মোটামুটি মেলা বসে যেত ৷ সেখানে বেলুনওয়ালা, জিলিপির দোকান বাদামওয়ালা ছিল ৷ আর ছিল আকাশে ঘনঘন প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেলিকপ্টারে চড়ে ওড়াওড়ি ৷

ভারতে নির্বাচনটা কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটাকে গণতন্ত্রের উৎসব বলা যেতে পারে ৷ গাড়ি, বাইক র‍্যালি, হেলিকপ্টার, লম্বা পদযাত্রা এবং লাখ লাখ লোকের জমায়েত, মিটিং মিছিল মূল আনন্দের।

নির্বাচনকে ঘিরে গড়ে ওঠে অনেকের জীবন-জীবিকা ৷ ফেস্টুন, পোস্টার, দু-চাকার যোগান, নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া জিনিস, পতাকার চাহিদা এ সময় তুঙ্গে ওঠে ৷ এমনকী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিগুলোরও এসময় নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত থাকে না ৷

এবারের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো একই প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নীতীশ কুমার ৷ আর তখনই উৎসব ভঙ্গ করতে হাজির করোনা মহামারি ৷ করোনার কারণে নির্বাচনের সময় জনতার মুখোমুখি হওয়া বা নির্বাচনী প্রচারের এই জাঁকজমক এখন সব থেকে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷

নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে করোনার জেরে নির্বাচন পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই ৷ এমতাবস্থায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা হতে চলেছে টেকনোলজির ৷ ভারতে সম্ভবত প্রথমবার নির্বাচন হতে চলেছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

নির্বাচন স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ডিজাইনবক্সের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ অরোরার মতে, টেকনোলজি নির্বাচনে বরাবরই বড়সড় ভূমিকা পালন করে এসেছে ৷ এই মহামারি পরিস্থিতি সেটার আরো গুরুত্ব বাড়িয়ে দিল ৷ তবে একদিকে যেমন উৎসবের মেজাজ হারিয়ে যেতে চলেছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে অন্যদিকে, মানুষের জীবনযাত্রা কম ব্যাহত করবে ৷

ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বহু মানুষের স্মার্টফোন রয়েছে এবং ফিচার ফোনের হারও কম নয় ৷ গত তিন বছরে একলাফে ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে ৷ ফলে ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমেই বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব ৷

গ্লোবাল ডিজিট্যাল মার্কেটিং এজেন্সি, আইসোবার ইন্ডিয়ার সিওও গোপা কুমার বলেন, মোবাইল ব্যবহারকারীরা দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটান ফেসবুক, টিকটক, হ্যালো, শেয়ার চ্যাট এবং হোয়াটস অ্যাপ করে। তাই নির্বাচনে সমস্ত সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ৷ ভোটার প্রার্থীদের মধ্যে সমস্ত যোগাযোগাদের দূরত্ব মিটিয়ে সেতুর কাজ করবে সোশ্যাল মিডিয়া ৷

রাজনৈতিক দলগুলো এরই মধ্যে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন শুরু করে দিয়েছে ৷ বর্তমানে নীতিশ কুমারের জনতা দলের সঙ্গে বিজেপির জোট, সে কারণে বিহারের জন্য নির্বাচনী প্রচারে দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ বিজেপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে থাকা অমিক মালব্যের মতে, মুখোমুখি জনসভার আকর্ষণ কোনোভাবেই মেটাতে পারবে না ডিজিটাল প্রচার ৷

বিজেপির মালব্য বলেন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যই আছে ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন সোশ্যাল হ্যান্ডেলে অ্যাকাউন্ট ও ফলোয়ারদের সঙ্গে কথা পার্টির ভাবমূর্তি তৈরিতে অনেকটা সহায়তা করে ৷ লকডাউনের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি ভাষণের প্রতিক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমেই সরকারের কাছে পৌঁছেছে ৷

বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি নেতা ও অধ্যাপক প্রফেসর মনোজ ঝাঁ-র মতে, ক্যাম্পেইন চলুক মোবাইলে৷ এর জন্য হোয়াটস অ্যাপ আর টিকটক হচ্ছে সেরা মাধ্যম ৷ ফেসবুক ও ইউটিউব ভিডিওকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে ৷

সূত্র : নিউজ এইটটিন




Source by [Original Post]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here