ইরফান সেলিমের ঘরে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মদ, ওয়াকিটকি-হাতকড়া

12
ইরফান সেলিমের ঘরে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মদ, ওয়াকিটকি-হাতকড়া

ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মারধরের শিকার হওয়ার জের ধরে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

সাদা রঙের নয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ইরফান সেলিম থাকেন জানিয়ে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে।

“আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।” 

ইরফান সেলিম

ইরফান সেলিম

রোববার রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সোমবার একটি মামলা হয় থানায়।

তাতে ইরফান সেলিম ছাড়াও হাজী সেলিমের প্রোটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন মামলার বাদী নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খান।

মামলা হওয়ার পরপরই গাড়ির চালক মিজানুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করে।

তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেওয়ার এবং হত্যার’ হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই ঘটনার পরে একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইল ফোনে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের বক্তব্য ধারণ করেন, যা ইতোমধ্যে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত মুখে বলতে শোনা যায়, তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে, তার স্ত্রীর গায়েও ‘হাত দিয়েছে’।

এর জের ধরে সোমবার বেলা ১২টার দিকে সোয়ারিঘাটের ওই বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই চতুর্থ তলা থেকে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে ‘হেফাজতে’ নেওয়া হয় বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ জানান।

ইরফান সেলিম নিজেও একজন জনপ্রতিনিধি; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।

তার বাবা হাজী সেলিম বর্তমানে ওই এলাকার সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাজী সেলিম এর আগেও দুই দফায় এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরমধ্যে ২০১৪ সালে বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

অভিযানের বিষয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “গত রাতে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। আপনারা জানেন বাসা-বাড়িতে অভিযান চালাতে হলে আইনি কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে; এজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও অভিযানে রয়েছেন।”

অভিযান তখনও চলছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

ইরফান সেলিম ও জাহিদ গ্রেপ্তার কি না জানতে চাইলে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, “আমরা এখনও গ্রেপ্তার বলছি না।”



Source by [Original Post]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here