কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সাফল্যের দবি নগর কর্তৃপক্ষের

13
কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া থাকলেও পুরান ঢাকার নবাবপুরে সড়কের ওপরেই পশু জবাই করতে দেখা যায়। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ঈদের
দিনই ৫টি ওয়ার্ড শতভাগ ‘বর্জ্যমুক্ত’ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি
করপোরেশন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দাবি, তাদের ওয়ার্ডগুলোর ৮০-৯৫ শতাংশ ‘বর্জ্যমুক্ত’
হয়েছে।

শনিবার
সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপন হয়,আরও দুদিন পশু কোরবানি দেওয়া যাবে।

কোরবানি
দেওয়া পশুর বর্জ্য প্রতিবছরই রাজধানীবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এবার
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই রোববার সকালের মধ্যে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে
কাজে নেমেছে।

উত্তরে ৫ ওয়ার্ড ‘শতভাগ বর্জ্যমুক্ত’

ঢাকা
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এম সাইদুর রহমান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শনিবার রাত ৮টার মধ্যে নগরীর ৫টি ওয়ার্ড
‘শতভাগ ‘বর্জ্যমুক্ত’ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ১, ৮, ১৭, ২৭, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড।

উত্তরা
মডেল টাউনের ১ হতে ১০ নম্বর সেক্টর, খিলক্ষেত, কুড়িল, কুড়াতলী, জোয়ারসাহারা,
জগন্নাথপুর, নিকুঞ্জ-১ ও ২ ও টানপাড়া বর্জ্যমুক্তের ঘোষণা এসেছে। এই এলাকাগুলো পড়েছে
১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে।


নম্বর ওয়ার্ডে মিরপুর সেকশন-১, ওয়াপদা কলোনী, ব্লক-এ থেকে ব্লক-এইচ, চিড়িয়াখানা
আবাসিক এলাকা, নবাবের বাগ, গোড়ান চটবাড়ী, বিআইএস.এফ স্টাফ কোয়াটার, কুমীরশাহ মাজার
ও বক্স নগর, উত্তর বিশিল, প্রিয়াংকা হাউজিং (সেকশন-১) নিউ সি ব্লক, বোটানিক্যাল
গার্ডেন আবাসিক এলাকা বর্জ্যমুক্ত হয়েছে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই।

২৭
নং ওয়ার্ডের তেজগাঁও এলাকায় বর্জ্যমুক্ত হয়েছে তেজতুরি বাজার, গ্রীন রোড, বীর
উত্তম কে এম সফিউল্লাহ সড়ক, মনিপুরী পাড়া, বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমান সড়ক।

মোহাম্মদপুরের
আযম রোড, আসাদ এভিনিউ, রাজিয়া সুলতানা রোড়, তাজমহল রোড, শের শাহ সুরী রোড,
নূরজাহান রোড, জাকির হোসেন রোড, শাহজাহান রোড, আওরঙ্গজেব রোড বর্জম্যুক্ত হয়েছে
বলে জানান ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন।

শনিবার
দুপুরে ভাটারা ছোলমাইদ হাটে পশুর হাটে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখতে গিয়ে উত্তরের
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে।”

ডিএনসিসির
৫২টি ওয়ার্ডের ২৫৪টি স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবার।
কিন্তু সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে নাগরিকদের অনিচ্ছায় হতাশ হন
মেয়র আতিক।

তিনি
বলেন, “নির্দিষ্ট জায়গায় অনেকে বর্জ্য রাখেন না। আমরা যদি সুনাগরিক হই, তাহলে
শহরটা কিন্তু পরিষ্কার থাকে।

“আমি
নগরবাসীকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব, আপনারা যারা কোরবানি দিচ্ছেন, কোরবানির পশুর
বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে দিন, ডিএনসিসির পরিছন্নতা কর্মীগণ তা সংগ্রহ
করবে।”

ডিএনসিসি
ধারণা করছে, কোরবানি ঈদের তিন দিনে প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে।

পরিবেশ
সম্মতভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ডিএনসিসি থেকে প্রায় ৬ লাখ বিশেষ ধরনের ব্যাগ
বিতরণ করা হয়েছিল।

কোরবানি
দেওয়ার স্থান, পশুর বর্জ্য অপসারণ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য ডিএনসিসির
নগর ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। ৩ অগাস্ট পর্যন্ত এই কন্ট্রোল রুম
সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।

কন্ট্রোল
রুমের নম্বর :০২-৫৮৮১৪২২০; ০৯৬০-২২২২৩৩৩; এবং ০৯৬০-২২২২৩৩৪

কোথাও
কোরবানি পশুর বর্জ্য থেকে গেলে নগরবাসী যাতে রিপোর্ট করতে পারে এজন্য একটি অ্যাপ
তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটির লিঙ্ক ডিএনসিসির ওয়েবসাইট ও ফেইসবুকে দেওয়া হয়েছে। এটি
ডাউনলোড করে ওপেন করে ছবি তুলে পাঠালে ডিএনসিসি জানতে পারবে কোথায় বর্জ্য রয়ে গেছে।
বর্জ্য পড়ে থাকার তথ্য মিললে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

কোরবানির
পশুর বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে অপসারণের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে ডিএনসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস
প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ মোট ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং
ডিএনসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছে।  এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি
বাতিল করা হয়েছে।

বর্জ্য
অপসারণের জন্য ভারী ও হালকা মোট ৪৩০টি যানবাহন কাজ করছে। বিশেষভাবে ১১টি পানির
গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানির স্থান দূষণমুক্ত
করা হচ্ছে ডিএনসিসির এলাকাগুলো।

পরিবেশ
সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৫১ টন ব্লিচিং পাউডার ও ৫ লিটার
ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৯৬০ ক্যান তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে কোরবানির এই সময়ে।

কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া থাকলেও সড়কের ওপরেই পশু জবাই করতে দেখা যায় পুরান ঢাকার বংশালে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া থাকলেও সড়কের ওপরেই পশু জবাই করতে দেখা যায় পুরান ঢাকার বংশালে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

দক্ষিণে ‘৮০-৯৫ ভাগ’ বর্জ্যমুক্ত

শনিবার
সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ড ৮০-৯৫ ভাগ’ বর্জ্যমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি
করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বদরুল আমিন বলেন,
“শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে দক্ষিণের ৭৫টি ওয়ার্ডকে আমরা ৮০ থেকে ৯৫ ভাগ বর্জম্যুক্ত
করেছি।

“বাকি
যে কাজগুলো আছে, তা আমরা রোববার সকালের মধ্যেই শেষ করে ফেলব।”

শনিবার
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র
শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরকে বর্জ্যমুক্ত করা হবে।

কোরবানির
পশুর হাট ও পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পরিবহণ বিভাগের
সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, ড্রাইভার, মেকানিক ও অপারেটরদের ৩১ জুলাই থেকে আগামী ৩
আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসি।

বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম মনিটর করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগর ভবনের
শীতলক্ষ্যা হলে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

ডিএসসিসির
মাঠ পর্যায়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে সচিত্র তদারকিতে ১০টি অঞ্চলের জন্য
১০টি টিম গঠন করা হয়েছে। 

এই
১০টি টিম আগামী ১ অগাস্ট হতে আগামী ৪ অগাস্ট বেলা ২টা পর্যন্ত ডিএসসিসিতে বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কাজ মনিটর করবেন।

কন্ট্রোল
রুমের মোবাইল নম্বর হল ০১৭০৯৯০০৭০৫। 

ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার নাগরিকদের বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি
ডিএসসিসিকে জানাতে কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে অনুরোধ করেছে ডিএসসিসি।

আগামী
৪ আগস্ট দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম চলমান থাকবে।



Source by [Original Post]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here