বিপিএল আয়োজনের যত চ্যালেঞ্জ! | 959312 | কালের কণ্ঠ

11
বিপিএল আয়োজনের যত চ্যালেঞ্জ!

বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়া যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগই বর্ণহীন। সেটিকে রঙিন ও ঝলমলে করতে ভিনদেশি খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নিশ্চিতে বাংলাদেশকে তিন টেস্টের সিরিজে আতিথ্য দেওয়াও কম জরুরি নয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) জন্য। সামনেই যেহেতু এলপিএল (লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ), তার আগে দেখাতে তো হবে যে অন্য দেশের ক্রিকেটাররাও সেখানে গিয়ে খেলছে। কাজেই অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরের সম্ভাবনা জেগে আছে এখানেই।

তবে নিজেদের দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তো বটেই, ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো সূচিও নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। এসএলসি যেখানে ২৩ অক্টোবর থেকে ইন্টার ক্লাব টি-টোয়েন্টি লিগের সূচিও ঘোষণা করে দিয়েছে, সেখানে এখানকার অবস্থা শুনে নিন বিসিবি পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের মুখ থেকে, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট শুরুর একটি আলোচনা আছে, তবে তা নিয়ে এখনো কোনো কাজই শুরু করিনি আমরা।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জন্য এই নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্লট রাখা হয়েছিল। বাস্তব কারণেই এই সময়ে সেটি আয়োজন অসম্ভব। তবে করোনার কারণে প্রায় সব দেশেরই ক্রিকেট সূচি এলোমেলো হয়ে যাওয়াতে বিপিএলের জন্য নতুন আরেকটি ‘উইন্ডো’ বের করা সম্ভব বলেই মনে করেন আসরটির গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার। সে জন্য অবশ্যই পালনীয় নানা শর্তের মধ্যে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটকেও রাখছেন। কারণ বিদেশি ক্রিকেটারদের এখানে এসে খেলার জন্য আকৃষ্ট করতে হলে নিজেদের কিছু আয়োজনের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন তিনি, ‘বিপিএল হবে কি হবে না, তা নির্ভর করবে অনেক কিছুর ওপর। আমরা যখন করপোরেট টি-টোয়েন্টি ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শেষ করতে পারব, তখন বিদেশি খেলোয়াড়রা আসবে। বিদেশি ক্রিকেটার না এলে তো বিপিএল করতেই পারব না।’

বিপিএল আয়োজনে পূরণ করতে হবে আরো অনেক শর্তও, ‘নতুন একটি সময় ঠিক বের করে ফেলতে পারব আমরা। কিন্তু শুধু বিদেশি ক্রিকেটার এলেই হবে না। বিদেশি কোচ, আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিও থাকবেন। সম্প্রচার সংস্থার প্রায় পুরো ইউনিটই বাইরে থেকে আসে। এমনকি ধারাভাষ্যকারদের প্যানেলেও বিদেশি থাকেন। এঁরা যখন আসতে রাজি হবেন, তখনই বিপিএল করতে পারব। এর আগে নয়।’

কিন্তু তাঁদের আসার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ কি তৈরি করতে পারছে বিসিবি? কিংবা ভিনদেশিদের কি এই বার্তা দেওয়া যাচ্ছে যে এখানে এসে খেলে যাওয়া নিরাপদ? অবশ্যই না। কারণ করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট পিছিয়ে দিয়ে বসেছিল বিসিবি! শ্রীলঙ্কা সফর অনিশ্চিত হয়ে যাওয়াতেই আবার ঘরোয়া ক্রিকেটের চিন্তায় ফিরেছে। কিন্তু সেই চিন্তাও ঝুলে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিশ্চিত সফরের জন্য, ‘করপোরেট টি-টোয়েন্টি করার অনুমতি সেদিনই (নানা শর্ত মেনে শ্রীলঙ্কা সফরে না যাওয়ার ঘোষণা যেদিন দেন নাজমুল হাসান) দিয়েছিলেন সভাপতি সাহেব। কিন্তু জাতীয় দল শ্রীলঙ্কায় গেলে মনে হয় না এটি এখনই হবে, ফেরার পর নভেম্বরে হতে পারে। ডিসেম্বরে ডিপিএলের কথাও ভাবা যেতে পারে।’

ভয়ে গুটিয়ে না থেকে ভিনদেশি ক্রিকেটারদের ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার জন্য আরো আগেই কি ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করা যেত না? ইসমাইল হায়দারের জবাব, ‘আমি এটিকে ভয় বলব না, বাস্তবতা। বিসিবির নিরাপত্তা প্রধান মারা গিয়েছেন করোনায়। কাজেই…।’ তাই নতুন সময় বের করা গেলেও বিপিএল আয়োজনে বিসিবির চ্যালেঞ্জ আরো বেশিই!



Source by [Original Post]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here